রাজধানীর গুলশানে অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গুলশান-১–এর ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের ওই বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়ে এসব গুদাম সিলগালা করে গোয়েন্দা সংস্থা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দুটি ওয়্যারহাউস অনুমোদিত হলেও তারা আরও দুটি অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত পণ্য মজুত রাখত। বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কেবল কূটনীতিক ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শুল্কমুক্ত মদ কেনার সুযোগ থাকলেও, খোলাবাজারে তা চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ মুরাদ জানান, প্রতিষ্ঠানটির সফটওয়্যারে কিছু পণ্য ছাড় দেখানো হলেও বাস্তবে গুদামে ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি এবং ৬ বোতল নেমিরফ পাওয়া যায়। আবার গত ৩ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ২৫০ কার্টন হেইনেকেন বিয়ার সফটওয়্যারে ‘ইনবাউন্ড’ হিসেবে দেখানো হলেও যৌথ অভিযানে গুদামে তার কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।
এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে পাওয়া এক প্রতিবেদনে শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে সন্দেহজনক লেনদেন এবং একাধিক কোম্পানির মালিকানার তথ্যও পেয়েছে। সেই প্রতিবেদনে ঢাকার এই বন্ডেড ওয়্যারহাউসের পরিচালক হিসেবে শেখ নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখ জানান, বন্ড সুবিধায় আনা পণ্যের হিসাব এবং মজুতের তথ্যের মধ্যে অসংগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পণ্য সরানো ঠেকাতে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে। এ বিষয়ে টস বন্ড কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
